Latest Update

সুগারবিট উৎপাদন কলাকৌশল

Linux Host Lab Ads

সুগারবিট একটি ৪-৫ মাসের শীতকালীন ফসল। এর মূলে মিষ্টি জাতীয় পদার্থ সংরক্ষিত থাকে যা ব্যবহার করেই চিনি বা গুড় উৎপাদন করা যায়। সুগারবিট থেকে চকলেট, সিরাপ, ইথানল তৈরি করা যায়। সুগারবিট পাল্প উত্তম পশু খাদ্য। সুগারবিটের ফলন ৬০-৮২ টন/হেক্টর এবং সুগার রিকভারি ১৪-১৮%।

 জমি নির্বাচনঃ

ট্রপিক্যাল সুগারবিট চাষাবাদের জন্য উঁচু, মাঝারি উঁচু ও সমতল জমি নির্বাচন করতে হবে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায় এমন জমি সুগারবিট চাষাবাদের জন্য উত্তম। জমির মাটি দোআঁশ অথবা বেলে-দোঅাঁশ এবং পর্যাপ্ত জৈব পদার্থযুক্ত হলে সুগারবিট উৎপাদন ভাল হয়। মাটির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৯.০ হলে উত্তম। লবণাক্ত জমিতেও সুগারবিট উৎপাদন করা যায়।

Linux Host Lab Offer

জমি তৈরিঃ

সুগারবিট একটি মুল জাতীয় ফসল তাই জমিতে প্রয়োজনীয় জৈব সার প্রয়োগ করার পর ৩০ সেমি থেকে ৪৫ সেমি গভীর করে আড়া-আড়িভাবে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে জমি উত্তমরুপে তৈরি করতে হবে। সেচের পানি যাতে গাছের গোড়ায় জমে না থাকে তার জন্য ৫০ সেমি. দূরে দূরে ৫-৬ সেমি. উঁচু রিজ/আইল তৈরি করতে হবে।

সুগারবিট উৎপাদন সফলভাবে করার জন্য প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ২৬০কেজি, টিএসপি ১২০ কেজি, এমওপি ২২৫ কেজি, জিপসাম ১০০ কেজি, জিঙ্ক সালফেট ১০ কেজি, বোরাক্স ২০ কেজি এবং গোবর ১৫০০০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। জমি চাষ করার পূর্বে সম্পূর্ণ জৈব সার (গোবর) সমানভাবে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। রিজ করার পূর্বে সারি/লাইনে সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট ও বোরাক্স এবং এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। পরবর্তীতে বীজ বপনেরর ৩০ ও ৬০ দিন পর বাকি ইউরিয়া ও এমওপি সার সারিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

বীজ হার ও বীজ বপন পদ্ধতিঃ

হেক্টর প্রতি বীজের পরিমাণ ৩.৫-৪.০ কেজি (হেক্টর প্রতি ১,০০,০০০-১,২০,০০০ টি গাছ থাকবে)। ৫০ সেমি দূরে দূরে তৈরিকৃত রিজ/আইলের উপর ২০ সেমি দূরে দূরে বীজ ২-৩ সেমি নিচে বপন করতে হবে।কাঙ্খিত গাছের সংখ্যা পাওয়ার জন্য পাশাপাশি দুটি গর্ত করে প্রতিটি গর্তে ১টি করে বীজ বপন করতে হবে এবং পরবর্তী ২০-২৫ দিন পর প্রতি ২০ সেমি. দূরে একটি করে গাছ রেখে বাকি গাছ তুলে ফেলতে হবে।

সেচ প্রয়োগঃ

সুগারবিট উৎপাদনেরর জন্য মাটির আদ্রতা অবশ্যই ৬৫% এর উপরে রাখতে হবে। সুগারবিটের সক্রিয় মুল প্রায় ২০০-২৫০ সেমি পর্যন্ত মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই মাটির ৬০ সেমি গভীর থেকে সে প্রায় ৭০% পানি গ্রহণ করে। প্রতি ১০০ কেজি মূল উৎপাদনের জন্য সুগারবিট মাটি থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি পানি গ্রহণ করে। সুগারবিটের জীবনকালে মাটির আদ্রতাভেদে ৫-৬টি সেচ প্রয়োজন হয়্ অঙ্কুরোদগম ভালভাবে হওয়ার জন্য বীজ বপনের পরপরই এমনভাবে একটি সেচ দিতে হবে যাতে রিজ/আইল সম্পূর্ণভাবে ভিজে যায়।পরবর্তীতে ১৫/২০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। বিট উত্তোলনের ১৫-২০ দিন পূর্বে সেচ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। তবে বিট উত্তোলনের সময় মাটি খুবই শুকনা ও শক্ত থাকলে সহজভাবে বিট উত্তোলনের সময মাটি খুবই শুকনা ও শক্ত থাকলে সহজভাবে বিট উত্তোললের জন্য হালকা সেচ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

আন্তঃপরিচর্যাঃ

গ্যাপ ফিলিং:

বিটের কাক্ষিত ফলন পাওয়ার জন্য গ্যাপ ফিলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বীজ বপনের ১০ দিনের মধ্যে বীজ থেকে চারা না গজালে বীজ দ্বারা এবং ২০ দিনের মধ্যে বীজ থেকে চারা না হলে/রোগাক্রান্ত হলে আলাদাভাবে পলিব্যাগে তৈরিকৃত চারা দ্বারা গ্যাপ ফিলিং করতে হবে। উল্লেখ্য যে, সারি থেকে উত্তোলিত চারা দ্বরাও গ্যাপ ফিলিং করা যাবে।

আগাছা দমনঃ

সুগারবিট ভাল ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত আগাছা দমলের প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক। বীজ বপনেরর পর থেকে ৯০-১০০ দিন পর্যন্ত জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে।তিন পর্যায়ে আগাছা দমন করতে হবে। প্রথম ২৫-৩০ দিন পর, দ্বিতীয় ৪৫-৫০ দিন পর এবং তৃতীয় ৭০-৮০ দিন পর। তবে জমিতে আগাছার পরিমাণ বেশি হবে প্রয়োজনে আরও অাগাছা দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গোড়ায় মাটি দেওয়াঃ

সুগারবিট একটি মুলজাতীয় ফসল তাই গোড়ায় মাটি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। দ্বিতীয় রার সার উপরি প্রয়োগ করার পর গাছের গোড়ায় মাটি দিতে হবে। মাটি এমনভাবে দিতে হবে যাতে গাছের মাথায় (Crown) মাটি না পড়ে।

পোকা-মাকড় দমন ব্যবস্থাপনাঃ

সাধারণত: সুগারবিট উৎপাদনের ক্ষেত্রে সুগারবিট ক্যাটারপিলার, কাটুই পোকা, জাবপোকা ইত্যাদি পোকার আক্রমণ হয়। বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর পর ১ লিটার পানিতে ১ এমএল নাইট্রো ৫০৫ ইসি (ক্লোরোপাইরিফস ও সাইপারমেথিন মিশ্রণ) মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকা দমন করা যায়। পোকা দমনের জন্য হেক্টর প্রতি ৩০-৩৫ টি সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়। পোকা দমনে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসাআরআই) এর কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

রোগবালাই দমন ব্যবস্থাপনাঃ

সুগারবিট স্ক্লেরোসিয়াম রুট রট, রাইযোকটনিয়া রুট ও ক্রাউন রট, সারকোসপোরা লিপ স্পট, অলটারনারিয়া লিফ স্পট, এ্যানথ্রাকনোস ইত্যাদি রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর পর ব্যাভিস্টিন (১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম) অথবা স্কোর ২৫০ ইসি (১ লিটার পানিতে ০.৫ এমএল) অথবা টিল্ট (১ লিটার পানিতে ০.৫ এমএল) স্প্রে করলে রোগ দমন করা যায়। বোগবালাই ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনে (বিএসাআরআই) এর কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

বিট উত্তোলন ও ফলনঃ

সুগারবিট ফসলটি ৫ থেকে ৫.৫ মাসে উত্তোলনের উপযুক্ত হয়।এজন্য বিটের বয়স ৪ মাস হওয়ার পর প্রতি ১০ দিন পর পর ব্রিক্সের পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। গাছের পাতাগুলো হলুদ হতে শুরু করলে এবং মূলে ব্রিক্সের পরিমাণ ১৮ থেকে ২২% হলে বিট সংগ্রহ করতে হবে। মাঠ থেকে সাধারণত: হাত দিয়ে বিট উত্তোলন করা হয়। সুগারবিটের হেক্টর প্রতি ফলন ৮০-১০০টন।

বিট থেকে গুড় উৎপাদনঃ

উৎপাদিত বিট ভালভাবে পরিস্কার করে পাতলা স্লাইস করতে হবে। স্লাইসকৃত বিট ডিফিউজারে ৭০°সে. তাপমাত্রার স্লাইসের দ্বিগুণ পরিমাণ পানিতে ১ ঘন্টা সিদ্ধ করতে হবে। ডিফিউজার থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বাল দিযে রস ঘনীভূত করতে হবে। ঘনীভূত রসে প্রয়োজনমত পাউডার চিনি মিশিয়ে দানাদার গুড় উৎপাদন করা যায়। পরবর্তীতে উৎপাদিত গুড় রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করতে হবে।

 

One thought on “সুগারবিট উৎপাদন কলাকৌশল”

  1. জাহাঙ্গীর আলম says:

    আমরা কিভাবে বাজারজাত করব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাপচাটি লিখুন * Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.