Latest Update

বিষয় ফ্রি-ল্যান্সিং কি , কিভাবে শিখবেন , কি কি লাগবে

Linux Host Lab Ads

ফ্রি-ল্যান্সিং কি এইটা বলার আগে মনে হয় ফ্রি-ল্যান্সিং কি না সেইটা আগে পরিষ্কার করা দরকার।
১. টাকা দিয়ে কোন সাইটের মেম্বার হয়ে অ্যাডসেন্স এর অ্যাড ক্লিক করে মাসে ৩০০০ টাকা আয় করা ফ্রি-ল্যান্সিং না
২. সারাদিন বসে বসে ক্যাপচা টাইপ করা ফ্রি-ল্যান্সিং না
৩. পিটিসি সাইটের রেফারেন্স ছড়ানো ফ্রি-ল্যান্সিং না

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার বা মুক্তপেশাজীবী হতে চান তাহলে প্রথমেই উপরের তিনটা কাজ না করার মানসিকতা তৈরি করুন। আর যদি এইসব করতে চান তাইলে করেন, কেউ মানা করে নাই। তবে সেক্ষেত্রে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার বলে পরিচয় দিয়ে সত্যিকারের ফ্রিল্যান্সারদের অপমান করবেন না। ধান ভানতে একটু শিবের গীত গাই। একটু আগে দেখলাম, কেউ একজন আইপি হাইড করার একটা সফটওয়ার এর লিংক দিয়ে পোস্ট দিছে, আবার লিখে দিছে এইটা দিয়ে অ্যাড ক্লিকানো যাবে! নিজেদের অকর্মণ্য জাতি ভাবতে ভালো লাগে না, কিন্তু এইসব দেখে দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি।

প্রসংগে ফিরত আসি। ফ্রি-ল্যান্সিং জিনিসটা তাহলে কি? সোজা ভাষায় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করাই ফ্রি-ল্যান্সিং।
ফ্রি-ল্যান্সিং করতে নিচের জিনিসগুলা লাগবে:
১. পরিশ্রম করার ইচ্ছা ও সক্ষমতা
২. ধৈর্য
৩. সাধারণ বুদ্ধিশুদ্ধি
৪. কাজের প্রতি নিষ্ঠা
৫. ইংলিশে মোটামুটি ভালো দক্ষতা (না থাকলে শিখতে হবে, কিছু করার নাই)

Linux Host Lab Offer

ধরে নেই আপনার মধ্যে এই পাঁচটাই আছে। এইবার প্রথমেই প্রশ্ন আসে কি কাজ করবেন। উত্তর সোজা- যা আপনি করতে পারেন বা করতে পারবেন। আপনার ইংলিশ লেখা চমতকার? হয়ে যান কনটেন্ট ডেভেলপার। আপনি ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ? মানুষজনকে তাহলে ওয়েবসাইট তৈরি করে দিন। মোট কথা, যে কোন সার্ভিস আপনি দিতে পারেন। তবে এমন কোন সার্ভিস দিতে যাবেন না যা আপনি পারেন না। তাতে নিজের এবং অন্যের সময় নষ্ট হবে।

যদি সার্ভিস দেয়ার মতো কোন স্কিল না থাকে তাহলে কি করবেন? স্কিল তৈরি করবেন। এই লেখা পড়তে যখন পারছেন, তার মানে ইন্টারনেট এ আপনার প্রবেশ আছে। তার মানে আপনি জ্ঞানের এক মহাসমুদ্রে আছেন। এখানে আপনি যা খুশি শিখতে পারেন, শুধু পরিশ্রম করতে হবে আর সময় দিতে হবে। ঠিক করেন কি শিখতে চান, তারপর গুগল করলেই পাবেন অসংখ্য টিউটোরিয়াল। এছাড়াও কোর্সেরা তে কোর্স করতে পারেন। আর সামু ব্লগেও অসংখ্য টিউটরিয়াল আছে। মোট কথা আপনার ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে যা শিখতে চান তাই শিখতে পারবেন। কেউ ঠেকাইতে পারবে না।

শুরু করার দুই তরিকা

ফ্রিল্যান্সিং দুই তরিকায় শুরু করা যায়। এক, ক্লায়েন্টের সংগে সরাসরি যোগাযোগ করে, সেইটা আপনার বা ক্লায়েন্ট যে কোন তরফ থেকেই হতে পারে। আর দুই, কোন মাধ্যম ধরে। এখানে মাধ্যম বলতে সেইসব ওয়েব প্লাটফর্মের কথা বলা হচ্ছে যেখানে ক্লায়েন্ট আর ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশে তো ওডেস্ক আর ফ্রিল্যান্সার এর কথা মনে হয় সবাই জানে। আপনিও সম্ভবত: এইটাই জেনে আসছেন যে ফ্রিল্যান্সিং করার একমাত্র উপায় হলো এই দুইখান ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করে তারপর এলোপাতারি এপ্লাই করা। ঘটনা সত্য তো নয়ই, বরং উল্টা। ফ্রিল্যান্সিং করার সম্ভাব্য সকল উপায়ের মধ্যে এই দুইখান সাইটে গিয়ে কাজ করা সবচাইতে বাজে উপায় সম্ভবত। এরা মানুষের শ্রমকে বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না, দিলে সব কাজের জন্য একটা মিনিমাম রেট ফিক্স করা থাকতো। আমি এইসব জায়গাতে প্রোগ্রামিং এর কাজের জন্য প্রতি ঘন্টা ১ ডলার দিতেও দেখেছি, কি ভয়ঙ্কর অবস্থা। অবশ্য ফ্রিল্যান্সিং এ এইভাবে এতো কম রেট ক্লায়েন্টরা অফার করার সাহস পায় মাদা*চো* ইন্ডিয়ানগুলার জন্য। এরাই কম রেট অফার করে করে মার্কেটকে এই অবস্থায় নিয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশিরা সেইটারে আরো নিচে নামানোর চেষ্টা করে যাইতেছে। রেট না, কাজের কোয়ালিটি যে আসল ব্যাপার এইটা এদের মাথায় নাই। যাই হোক, আমার কথা হইলো এইসব জায়গায় গিয়ে নিজের মেধা ও শ্রম দিনের পর দিন একটা কাজ পাবার আশায় ব্যয় না করে আত্মনির্ভরশীল হোন। দুনিয়া পুরাটাই অপেন, চেষ্টা করলে ক্লায়েন্ট আপনি নিজেই বের করতে পারবেন। এইজন্য প্রথমে নিজের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করুন। দয়া করে .CO.CC টা্ইপ ফালতু সাবডোমেইনে বেগুনি কমলা ইত্যাদি রং দিয়ে ওয়েবসাইট করার চেষ্টা করবেন না। কিছু টাকা খরচ করে একটা টপলেভেল ডোমেইন (যেমন .com, .net, .org, .info ইত্যাদি) কিনেন, আখেরে কাজে দিবে। সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করেন, একটা সুন্দর ছিমছাম থীম একটিভেট করেন এবং নিজের কাজের পোর্টফলিও আপ করেন। যতোটুকু পারেন অপটিমাইজ করেন এবং সোশাল মিডিয়ার সংগে ইন্টিগ্রেট করেন। আর এই কথাগুলো যদি আপনার মাথার উপর দিয়ে যায় তাহলে আপাতত কিছুদিন অপেক্ষা করেন, কিছুদিনের মধ্যেই ডোমেইন খোঁজা থেকে শুরু করে ওয়েবসাইটে ট্রাফিক (মানে ওয়েবসাইটের ভিজিটর) আনার ব্যবস্থা করা পর্যন্ত সকল কাজ কিভাবে করতে হবে তা ধাপে ধাপে বর্ণনা করে পোস্ট দেয়া হবে।

তো ওয়েবসাইট তো হইলো, কিন্তু ক্লায়েন্ট আসবে কোথা থেকে? ক্লায়েন্ট আসবে না, আপনাকে খুঁজে নিয়ে আসতে হবে।এইটা মোটামুটি একটা যুদ্ধ, আগেই বলছি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই হবে না । তো প্রস্তুত? প্রস্তুত হইলে আসেন দেখি যুদ্ধের ময়দান কই কই আছে:

১. ফোরাম:
বড়ো বড়ো ফোরামে মানুষজন এমনিতেই কাজের জন্য লোক খুঁজে পোস্ট দেয়। দুইটা এইরকম বড়ো ফোরাম হইলো ডিজিটালপয়েন্ট আরওয়ারিয়রফোরাম । এছাড়া সাইটপয়েন্ট ও বেশ ভাল। আরো অনেক খুবই একটিভ ফোরাম আছে, সার্চ করলেই পাইবেন। তবে অবশ্যই অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এইসব ফোরামে গিয়ে খালি হ্যাংলার মতো কাজ খুঁজবেন না। ফোরামে পার্টিসিপেট করবেন, মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতার সাথে মিশবেন। ব্যবসার ধান্দা দুই নাম্বারে রেখে এক নাম্বারে রাখবেন রিলেশনশিপ তৈরি করা। মনে রাখবেন এই যুগ হইলো রিলেশনশিপ মার্কেটিং এর যুগ। ভালো সম্পর্ক তৈরি করেন আগে, তারপর আপনি কোন একটা কাজ ভাল জানেন এবং করতে আগ্রহী এইটা বললে অন্যরাই আপনারে ক্লায়েন্ট এনে দিবে।

২. কোরা:
কোরা একটা খুবই সফিস্টিকেটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, যেখানে প্রফেশনাল লোকজন একে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দেয়। কোরাতে জয়েন করেন এবং দেখেন আপনি যে সার্ভিস দিতে চান সে সম্পর্কিত কি কি প্রশ্ন আছে। ভালোমতো সেগুলোর উত্তর দিন এবং নিজেকে একজন স্কিলড প্রফেশনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর দেখেন কি হয়। নিজের সাইটে লিংক মাঝেমধ্যে ঢুকায় দিবেন উত্তরে, তবে সেইটা যেন দৃষ্টিকটু না হয়।

৩. ইয়াহু আনসারস
কোরা-তে যা করবেন এইখানেও তাই। পার্থক্য হইলো এইখানে রিলেশনশিপ এর ধার ধরার দরকার নাই। নগদে সব উত্তরের লগে নিজের সাইটের লিংক দিবেন। তবে অপ্রাসঙ্গিক কোন উত্তর দিবেন না।

৪. মেইলিং লিস্ট ও ফ্রিবি
খালি বাঙালি না, সারা দুনিয়া ফ্রি পাইলে আলকাতরা খায়। সেইখানে আপনি কোকাকোলা ফ্রি দিয়া দেন পারলে। আপনার সার্ভিস রিলেটেড কিছু একটা, যেইটার এমনিতে ভালোই দাম আছে, সেইটা ফ্রি ডাউনলোড করতে দিয়া দেন। তবে সেইজন্য যেন আগে তার আপনার মেইলিং লিস্টে সাবস্ক্রাইব করা লাগে। এইটার জন্য মেইলচিম্প ব্যবহার করতে পারেন ফ্রি-তে, আর সাবস্ক্রাইবার বেশি হইলে এওয়েবার – এরা আবার প্রথম মাস $১ এ অফার করতেছে। তো ফ্রি কি দিবেন? ধরেন আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হোন তাইলে একটা থীম বানায়া ফ্রি দিয়া দেন। যদি ডিজাইনার হোন তাইলে কিছু ভেক্টর ডিজাইন কইরা দিয়া দেন। মূল কথা হইলো এইরকম কিছু একটা দিতে হবে যেইটা আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট যারা তাদেরই দরকার। এইবার যতোভাবে পারেন এই ফ্রি জিনিস যে দিতাছেন সেইটা ঢোল পিটায়া প্রচার করেন। সাবস্ক্রাইবার লিস্ট আস্তে আস্তে বড়ো হবে আর আপনি তাদের মাঝে মাঝে মেইল করে কাজের জিনিস দিবেন আর মাঝে মাঝে মেইল করে আপনার সার্ভিস অফার করবেন।

৫. ক্রেইগসলিস্ট
ক্রেইগসলিস্ট হইলো ক্লাসিফায়েড এড পাবলিশ করার জায়গা। এক এক দেশের এক এক শহরের জন্য এরা আলাদা বোর্ড মেইনটেইন করে। আপনার কাজ হবে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বোর্ডে ঢুকে ঢুকে আপনার সার্ভিস কেউ খুঁজতেছে কিনা সেইটা বের করা, তারপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

৬. টুইটার
আপনি ব্যবসা করবেন আর টুইটারে একটিভ থাকবেন না, তা তো হইতে পারে না। টুইটার আপনাকে নানাভাবে হেল্প করবে। প্রথমেই আপনার সার্ভিস এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কিওয়ার্ড দিয়া টুইটার সার্চ দেন। দেখেন কে কে সেগুলা নিয়া টুইট করতেছে, তাদের নগদে ফলো দেন, তাদের কিছু টুইটের রিপ্লাই করেন। নিজেও ইন্টারেস্টিং লিংক, দরকারি টিপস এইগুলা সমানে টুইট করে যান। এছাড়া, কিছু টুইটার হ্যান্ডেল আছে যেইগুলাতে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের খবর পাওয়া যায়, সেগুলারে ফলো দেন। আমি দুইটা উদাহারণ দিলাম, খুঁজলে আরো পাবেন: UrFreelanceJobs , JobFreelancer

৭. লিংকডইন
লিংকডইন এ প্রোফাইল আছে? না থাকলে এখনি করেন, এইটা আরেকটা ফরয কাজ। সুন্দর করে গুছায়া প্রোফাইল। নিজের দক্ষতাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বর্ণনা করবেন। ওয়েবসাইটের লিংক প্রোফাইলে যুক্ত করবেন। এইবার মূল কাজ। দেখেন যে শুধু গ্রুপ সার্চ করার ব্যবস্থা আছে। সেইখানে আপনির্ম যে সার্ভিস দিতে চাচ্ছেন তার সম্পর্কিত কিওয়ার্ড দিয়া সার্চ করেন। সবচাইতে একটিভ গ্রুপগুলায় জয়েন করেন। দুই একদিন লাগবে এডমিন এপ্রোভাল পাইতে, যদি অপেন গ্রুপ না হয়। এপ্রুভ হওয়ার পরে গ্রুপগুলায় একটিভ হোন। দেখেন যে সব গ্রুপে ‘জবস’ বলতে একটা সেকশন আছে, সেইটা নিয়ম করে চেক করেন আর কোন অপরচুনিটি দেখলেই নক করেন।

আপনি নিশ্চয়ই ভাবতেছেন আপনার অতিপ্রিয় ফেসবুকের নাম নাই কেন? কারন ফেসবুক দিয়া এই লাইনে আসলে কোন সুবিধা নাই। ফেসবুক হইলো ইন্টারনেট এর সবচাইতে আকাইম্মা জিনিস, আমার মতে।

তো এতোগুলা ওয়ে দেখানোর পরেও কি মনে হইতেছে দালাল মানে আউটসোর্সিং প্লাটফর্ম ধরেই কাজ করা উত্তম? আপনার যা মর্জি। তাহলে সেক্ষেত্রেও কিছু কথা বলার আছে আর কি।

আউটসোর্সিং প্লাটফর্ম মূলত তিন রকম:
১. জেনারেল
নানা ধরনের সাধারন কাজগুলা এইখানে আসে, সফটওয়ার বানানো থেকে শুরু করে টাইপ করা- ছোট বড় সবধরনের কাজ। বাংলাদেশে এইসব প্লাটফর্মই বেশি পরিচিত। এইসব সাইটে কাজের জন্য বিড এবং আবেদন করতে হয়। তারপর ক্লায়েন্ট পছন্দ করলে ইন্টারভ্যু নিয়ে কাজ দিতে পারে। এইক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সাইটগুলি হচ্ছে
Freelancer
Freelancers
upwork
Elance
Guru
Vworker

২. মাইক্রো
এইসব সাইটে খুব ছোট ছোট কাজ যেমন কোন ফর্ম ফিলাপ করা, ফেসবুক পেজ লাইক করা ইত্যাদি থাকে। এগুলো করার জন্য কোন বিড করতে হয় না। যদি করতে পারেন তাহলে জাস্ট করে ফেললেই হয়।
Microworkers
Amazon Mturk
Minuteworkers
ShortTask
Rapidworkers

৩. গিগ
গিগ একটা নতুন ক্রেজ। গিগ হইলো এমন একটা সার্ভিস যেটা আপনি নির্দিষ্ট একটা টাকার বিনিময়ে করে দিতে প্রস্তুত। সাধারনত টাকাটা ৫ ডলার বা ১০ ডলার। একটা উদাহারন দেই- ধরেন আপনি ৫ ডলারের বিনিময়ে যে কারো ছবি একে দিতে প্রস্তুত। তো সেইটা লিখে, কিছু বর্ণনা আর আপনার আকা কিছু ছবির স্যাম্পল সহ এই সার্ভিসের কথা আপনি গিগ ওয়েবসাইটে আপ করে দিলেন, তাইলে এইটা আপনার একটা ‘গিগ’। যদি কারো এই সার্ভিস দরকার হয় তাহলে এই গিগ কিনতে পারে। প্রতিবার কেনার জন্যই আপনি টাকা পাবেন। এইটার সুবিধা হইল যেসব জিনিস একবার উতপাদন করেই বারবার ডেলিভারি দেয়া সেইসবের গিগ যদি হিট হয় তাহলে অটোতে ইনকাম হয়। যেমন ধরেন, আমি যদি এই পোস্টটাকে একটা বই বানাই- ‘ফ্রি-ল্যান্সিং এর অ-আ-ক-খ’ আর সেটাকে গিগ হিসেবে আপলোড করি তাহলে মানুষ যতোবার গিগ কিনবে ততোবার আমি টাকা পাবো এই এক বই থেকেই। মেজর গিগ সাইটগুলা হল:

Fiverr
SEOclerks
GigBucks
Zeerk
TenBux
Fourerr
PeoplePerHour

এখন কথা হলো এইসব প্লাটফর্মে কিভাবে সফল হবেন? মাইক্রোতে সফল বা ব্যর্থ হওয়ার কিছু নাই, এমনিতেই কাজ পাবেন। আর গিগ সাইটে কিভাবে সফল হতে হয় সেটা অনেক বড়ো ব্যাপার, সেটা নিয়ে আলাদা ইবুক করা হবে। তো এইখানে সংক্ষেপ জেনারেল মানে ইল্যান্স, অডেস্ক এইসবে কিভাবে কাজ পাইতে পারেন সে বিষয়ে কথা বলি।

কাজ হাসিলের অব্যর্থ পন্থা

আসলে অব্যর্থ পন্থা বলে কিছু নাই। তবে যা যা বলবো তা আপনারে হেল্প করবে অবশ্যই। প্রথমেই তো অবশ্যই নিজের প্রোফাইল ঠিকঠাকমতো তৈরি করবেন- কোন বানান বা গ্রামারের ভুল যেন না থাকে। যদি ভিডিও দেয়ার সুযোগ থাকে তাহলে ভিডিও বায়ো দিন। প্র্রোফাইল এর পরের পর্যায় নিয়া টিপস দেই কিছু, যেটা হলো কাজের জন্য আবেদন করা। খুব রুঢ় ভাষাতে লিখবো, আগেই সতর্কতা দিয়ে রাখলাম।

১. কোন আজাইরা প্যাচাল হবে না। আবেদনে ফালতু, অর্থহীন একটা লাইনও যেন না থাকে। হাই আর ইউ আই এম বেরি পাইন.. এইসব কোন কথা হবে না। সোজাসুজি বলেন এই কাজ করার ইচ্ছা ও যোগ্যতা আপনার আছে আর সেইটা প্রমান হইল এই এই। এবং “আমার বিশ্বাস আমি এই কাজ সবার চাইতে ভালো করবো সুতরাং আমারে হায়ার করতে হবে” এইসব কথাও যেন না থাকে। আপনার সকল বিশ্বাস পেটের মধ্যে রেখে দেন, নোবডি গিভস আ শিট এবাউট আপনার বিশ্বাস। যা বলবেন সেটা লজিকালি ডিফেন্ড করতে হবে। এইরকম বলতে পারেন- আমি এই কাজ করতে সক্ষম কারন অতীতে এইরকম একটা কাজ আমি সফলভাবে করেছিলাম, যার রেফারেন্স হচ্ছে এই.. ।
২. কাজ বুঝে আবেদন করবেন: অন্ধের মতো একই কভার লেটার সব জায়গাতে দিবেন না। আগে কাজটা কি ভালমতো পড়েন। তারপরে আরো একবার পড়েন। নিজে চিন্তা করে দেখেন করতে পারবেন কিনা। তারপর জব অনুসারে কভার লেটার লেখেন।
৩. অবশ্যই স্যাম্পল দিতে হবে: আপনার আগের কাজের স্যাম্পল দিবেন। এটাচ না করে লিংক হিসেবে দেয়া ভালো। ছোট স্যাম্পল দিবেন যেটা তাড়াতাড়ি দেখা যায়।
৪. নাম্বার এ কথা বলা শিখতে হবে: কথাবার্তা যতোখানি পারেন নির্দিষ্ট করে সংখ্যায় বলবেন। যেমন: আপনি বললেন ‘আমি অমুক সাইটের এসইও-র কাজ করার পর সাইটের প্রচুর লোক আসা শুরু হয়। এইভাবে আসলে বলার চাইতে না বলা ভালো। বললে নির্দিষ্ট করে সংখ্যা উল্লেখ করে বলা উচিত। যেমন, আমি অমুক সাইটের এসইও-র কাজ করার ৩ মাসের মধ্যে অর্গানিক ট্রাফিক এ ৩৭% গ্রোথ হয় (সংগে এনালিটিকস ডাটার স্ক্রীনশট দিলে ভালো)।
৫. সম্ভব হলে কাজ কিছুটা করে দেখান: যেই কাজটার জন্য আবেদন করছেন তার কিছু অংশ করে ফেলুন পারলে, ২৫% করলেও হবে। তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।
৬. বানান আর গ্রামার: এই ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ভুল হয় না। দরকার হলে কয়েকবার করে চেক করেন।

এইসবের পাশাপাশি আরো কিছু ব্যাপার মনে রাখা দরকার:
১. মিথ্যা কথা পরিহার করেন, কোনরকম মিথ্যার আশ্রয় নিবেন না।
২. ধর্মীয় সম্বোধন/সম্ভাষন হবে না। আসসালামু আলাইকুম, নমস্কার এইসব কিচ্ছু চলবে না।
৩. ডেডলাইন মানে ডেডলাইন। এমন কোন ডেলিভারি ডেট বলবেন না যেটা আপনার পক্ষে সম্ভব না। কাজ নেয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সময়মতো দিতে পারবেন।
৪. সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করুন। চেষ্টা করুন খুব দ্রুত রেসপন্স করার। শুধু ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য আলাদা একটা মেইল একাউন্ট রাখুন। এবং সেটায় মেইল আসামাত্র যেন আপনি বুঝতে পারেন এমন ব্যবস্থা করুন।
৫. পোর্টফোলিও বাড়ান: কাজ শেষ করে ক্লায়েন্টকে ভদ্রভাবে অনুরোধ করুন একটা ছোট্ট রিকমেন্ডেশন লেটার দিতে আর পোর্টফলিও তে এই কাজটা আপনি যোগ করবেন এটাও জানান। এটা খুবি গুরুত্বপূর্ণ।
৬. রেট কমানো যাবে না, যে রেট এ কাজ পোস্ট করা হয়েছে কাজ পাওয়ার আশায় তার চাইতে কম রেটে বিড করবেন না কখনোই। আপনার শ্রমের মূল্য আছে, নিজেকে সম্মান দিতে শিখুন।
৭. গণহারে এপ্লাই করবেন না, কাজ বুঝে এপ্লাই করবেন। যেমন প্রথমদিকে যেসব কাজ আরজেন্ট লেখা থাকবে, খুব দ্রুত দরকার সেসব করুন। করে পোর্টফলিও হলে তারপর ঘন্টা হিসেবে কাজে যান। এভাবে যে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং বেশি লাভজনক হিসাব নিকাশ করে সেসব কাজে আবেদন করেন।
৭. ভারতীয় এবং পাকিস্তানিদের সংগে কোন ডিল নাই- ইউনিভার্সাল ল, এইটার কোন ব্যাখ্যা দিতে পারবো না, আমারে এইজন্য রেসিস্ট বললে আমি রেসিস্টই হইলাম কিন্তু এদের সংগে আউটসোর্সিং এর কোন কাজ করা যাবে না।

আজকের বিশাল পোস্ট আপাতত এইখানে সমাপ্ত। যাওয়ার আগে একটা কথা জানতে চাই- আগের পোস্ট অনেকেই পড়লো বাট কমেন্ট খুবি কম। আপনারা কি তাইলে এই বিষয়ে আগ্রহী না নাকি আমার লেখায় সমস্যা নাকি অন্য কোন বিষয়? জানাইলে বাধিত হইবো। আমার সাইটটি ভিজিট করে আসতে পারেন

সাইট লিংক: আমার প্রতিভা ডট কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাপচাটি লিখুন * Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.